জোড়া খুনের ঘটনায় যেকোনো সময় যেকাউকে উঠায়ে নেবো: ঝিনাইদহ এসপি

ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাসানুজ্জামান বলেছেন, ধুলিয়াপাড়ার ডাবল মার্ডার মামলা আমি নিজে পুলিশ সুপার হিসেবে সরাসরি তত্ত্বাবধান করবো। মার্ডারকে কেন্দ্র করে কারা কারা লাভবান হবে তারা পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। ঘটনা তদন্ত সংশ্লিষ্টতার জন্য আমরা যেকোনো সময় তাদেরকে উঠায়ে নিয়ে আইনের আওতায় আনবো।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে কাঁচেরকোল ইউনিয়নের ধুলিয়াপাড়া গ্রামের প্রাইমারি স্কুল মাঠে জোড়া খুনের ঘটনায় বিশেষ শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথি ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাসানুজ্জামান বলেন, জোড়া খুনের ঘটনায় সামাজিকভাবে যারা লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছেন তাদের উভয়পক্ষের নাম, ইন্ধনদাতা কিংবা এলাকায় সামাজিক সমস্যাগুলো জিইয়্যে রাখে এইসকল ব্যক্তিদের নাম আমাদের খাতায় আছে।

তিনি বলেন, এই ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, নেপথ্যে কারা, সরাসরি হত্যাকাণ্ডে কারা অংশগ্রহণ করেছে, কে সহযোগিতা করেছে, ঘটনার আগে ও পরে কার কি ভূমিকা ছিল প্রত্যকটা বিষয় আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নোট করছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাদা পোশাক ও টহল পোশাকে ঘোরাঘুরি করছে। ঘটনার সংশ্লিষ্টতা পেলে যেকোনো সময় যেকাউকে উঠায়ে নেয়া হতে পারে। ঘটনা তদন্ত সংশ্লিষ্টতার জন্য আমরা যেকোনো সময় তাদেরকে উঠায়ে নিয়ে আইনের আওতায় আনবো। পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এলাকা যেনো শান্তিপূর্ণভাবে থাকে। এজন্য প্রয়োজন এলাকার মানুষের সম্পৃক্ততা।

পুলিশ সুপার বলেন, পবিত্র রমজান মাসে করোনা মহামারীতে সবাই যখন আতংকিত তখন কতিপয় সন্ত্রাসীরা মানুষ হত্যা করে রক্তের হোলী খেলবে আর পুলিশ ঘরে বসে আঙ্গুল চুষবে সেটা যেন কেও না ভাবে। হত্যার সাথে যে বা যারা জড়িত আছে তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি এ হত্যা মামলার বাদী পক্ষের কাছে আবেদন করেন যে, তারা যেন কারো উস্কানিতে পড়ে লুটপাট বা আইনশৃংখলার অবনতি হয় এমন কোনো কাজ করবেন না।

হাসানুজ্জামান আরও বলেন, যারা এ এলাকায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাবে তাদেরকে এমন অবস্থা করা হবে যেন সারাজীবন পুলিশের কথা মনে থাকে, আর অন্যায় করার কথা যেন স্বপ্নেও কল্পনা করতে না পারে। আইনের হাত অনেক লম্বা। ইতিপূর্বে এ এলাকায় আইনশৃংখলার অবনতি হলে গত ১০ই মার্চ বিবদমান দু’পক্ষের মধ্যে মিমাংশা করা হয়েছিল। তিন মাস এ এলাকায় শান্তি বিরাজ করছিল। আজ আবার যারা আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটালো সে যেই হোকনা কেন তাকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হবে। কাউকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (শৈলকুপা সার্কেল) আরিফুল ইসলাম, ওসি ডিবি আনোয়ার হোসেন, শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলুর রহমান, ওসি-তদন্ত মহসিন হোসেন, কচুয়া তদন্ত কেন্দ্র (ওসি) পিয়ার আলী, কাঁচেরকোল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড. সালাহ্উদ্দীন জোয়ার্দার মামুন ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

কাঁচেরকোল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড. সালাহ্উদ্দীন জোয়ার্দার মামুন বলেন, এই গ্রামে যারা বসবাস করেন তারা সবাই আমার লোক। কেননা গত নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে আমি ৫০ ভোট বাদে সব ভোট পেয়েছিলাম। আমি কোনো পক্ষের লোক নই, আমি এলাকার জনপ্রতিনিধি, আমি শান্তি চাই। এই হত্যাকাণ্ডে আমিও যদি কোনো অপরাধ করে থাকি তাহলে আমারও আইনের আওতায় আনা হোক। আইন সবার জন্যই সমান। তিনি সবাইকে ধৈর্য্য সহকারে শান্তিপূর্ন সহাবস্থান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহবান জানান।

এদিকে, ধুলিয়াপাড়া গ্রামে জোড়া খুনের ঘটনায় ৪৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। এরমধ্যে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুুলিশ।

https://www.facebook.com/groups/dailydakua/permalink/3109095725809485/
মন্তব্য করুন