• Home »
  • অন্যান্য »
  • ছাত্রলীগের কমিটি চূড়ান্ত, গণভবনে যাদের নাম চূড়ান্ত

ছাত্রলীগের কমিটি চূড়ান্ত, গণভবনে যাদের নাম চূড়ান্ত

ঈদের আগেই ছাত্রলীগের কমিটি চূড়ান্ত করতে চান প্রধানমন্ত্রী। গতরাতে দেশে ফিরে আজ সকালেই তিনি বলেছেন, ‘ছাত্রলীগের কমিটি তাড়াতাড়ি দিতে হবে। এতদিন কমিটি ঝুলিয়ে রাখা ঠিক না।’ আজই তিনি কমিটি নিয়ে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ছাত্রলীগে বহিরাগত অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে গেছে এরকম অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী কমিটি ঘোষণার আগে যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ছাত্র রাজনীতি, পারিবারিক পরিচয় এবং শিক্ষাগত বিষয় নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে খোঁজ-খবর নেন। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট তৈরি হয় ৫ টি বিষয়ের ভিত্তিতে। বিষয়গুলো ছিল, ১. ছাত্র রাজনীতির সূচনা কি ছাত্রলীগের মাধ্যমে ছিল কিনা? ২. পারিবারিক ভাবে আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কিনা ৩. তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ব্যবসা বা অন্যান্য কোনো অভিযোগ আছে কিনা ৪. শিক্ষাক্ষেত্রে মেধাবী কিনা ৫. কোটা সংস্কার আন্দোলনে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা।

গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজস্ব টিমের মাধ্যমেও পদ লাভে ইচ্ছুকদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন। এর ভিত্তিতে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকাদের ব্যাপারে আরও খোঁজ খবর দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি নিজেও ঐ প্রার্থী যে এলাকার, সেই এলাকার নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে তথ্য নিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের প্রধান দুই পদ চূড়ান্ত করে ফেলেছেন। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে, তিনি দলের সিনিয়র নেতা এবং প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতাদের মতামতগুলো শুনতে চান। একটি সূত্র বলছে যেহেতু কমিটি বিলম্ব হয়েছে; তাই শুধু সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক নয়, পুরো কেন্দ্রীয় কমিটির নাম একসঙ্গে ঘোষণারও একটি চিন্তা আছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ছাত্রলীগের কমিটি চূড়ান্ত করবেন এর সাংগঠনিক প্রধান, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি কখন করবেন এটা তাঁর এখতিয়ারাধীন বিষয়।’ তবে তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা খুব শিগগিরই তিনি দেবেন।’

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী আগামী অর্থ বছরের বাজেট নিয়ে খুব ব্যস্ত। তবে এর মধ্যেই ছাত্রলীগ তাঁর অগ্রাধিকার। ঐ সূত্র বলছে, ছাত্রলীগ নিয়ে বিগত কয়েক বছরে কোটারী স্বার্থ হয়েছে,গড়ে উঠেছে একটা সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট ভাঙতেই কমিটি গঠনে বিলম্ব হয়েছে। যারা ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব নেবেন, তাঁরা বুঝবেন ‘বড় ভাই’রা তাদের নেতা বানায়নি, তাদের নেতা বানিয়েছেন দলের সভাপতি। কাজেই এই ছাত্রলীগ নেতারা বড় ভাইদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে না।

ঐ সূত্র বলছে, আঞ্চলিক বিবেচনা নয় বরং যোগ্যতার ভিত্তিতেই এবার কমিটি হবে।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা মনে করছেন, ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে বিলম্ব হওয়া যৌক্তিক। কারণ, নির্বাচনের আগে এই কমিটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নির্বাচনের আগে যেন ছাত্রলীগের নামে কোনো বদনাম না ছড়ায় সে ব্যাপারে নজর রাখা হচ্ছে।

একটি সূত্র বলছে, আনুষ্ঠানিক নাম ঘোষণার আগে প্রধানমন্ত্রী নতুন ছাত্রলীগ নেতাদের ডেকে কথাও বলতে পারেন।

জানা গেছে, ছাত্রলীগে পদ প্রত্যাশীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। নেতা হিসাবে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার আগে তাদের রাজনৈতিক রাজনৈতিক দুরদর্শিতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, সংগঠনের প্রতি ত্যাগ, যোগ্যতা ও প্রতিজ্ঞা পরখ করে দেখবেন শেখ হাসিনা।

নীতিনির্ধারনী ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগের নেতা হতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের সাক্ষাতকার নেয়া শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও আবার বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কমিটি ঘোষণা করা হবে। ফলে চলতি সপ্তাহেও হচ্ছে না ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা।

এ মাসের ১১ ও ১২ তারিখে ছাত্রলীগের ২৯ তম সম্মেলন হয়। কমিটি ঘোষণা ছাড়াই শেষ হয় সম্মেলন। সম্মেলনে সভাপতি পদে ১১১ ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্যে ২১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। চলতি মাসের ১১ও ১২ তারিখ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তবে নতুন নেতা নির্বাচন করা ছাড়াই শেষ হয় সম্মেলন।

এর আগে তিন দফা ভোটের মাধ্যমে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা নির্বাচিত হয়। সারাদেশ থেকে আসা কাউন্সিলররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তবে গত দুই বার ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হলেও তাদের নিয়ে নানা সমালোচনা হয়। সর্বশেষ দুই বারের কমিটিতে সংগঠনটিতে অনুপ্রবেশ ঘটেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনের বিরুদ্ধে এসব নানা অভিযোগ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক প্রধান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আমলে নিয়েছেন। পরিপ্রক্ষিতে সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট প্রক্রিয়া বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শেখ হাসিনা। এবারের সম্মেলনে তিনি জানান যে, ছাত্রলীগে তার পছন্দের নেতৃত্ব আছে। তবে কারা তাঁর পছন্দের প্রকাশ করেননি। শেখ হাসিনা অন্যদের মত জানতে চেয়েছেন। সবাই একবাক্যে জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর পছন্দেই তাদের পছন্দ।

তাই জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ছাত্রলীগ কমিটি নিজের মত করে বেছে নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

ছাত্রলীগের শীর্ষ পদের বয়সসীমা নিয়ে নতুন করে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। অনূর্ধ্ব ২৮ ও অনূর্ধ্ব ২৯ এই দুই সংখ্যার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে আসন্ন কমিটির শীর্ষ নেতাদের ভাগ্য। নতুন কমিটি ঘোষণা ছাড়াই গত শনিবার শেষ হয় ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন। সংগঠনটির ‘সাংগঠনিক নেত্রী’ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। তারা আশা করছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন।

আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাখা বক্তব্যে বয়সসীমা অনূর্ধ্ব ২৮ এর কথা বলেছিলেন প্রধনমন্ত্রী। এরপর ওই রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। দলের নেতাদের অনুরোধে বয়সসীমা বাড়িয়ে অনূর্ধ্ব ২৯ করেন তিনি। অনূর্ধ্ব ২৯ এর বিপক্ষে অবস্থান নেন ছাত্রলীগের ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। তারা আবার দুদিন পর গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বয়স অনূর্ধ্ব ২৮ রাখার অনুরোধ জানান। ছাত্রলীগের বয়স চূড়ান্তের বিষয়টি এখন পুরোটাই প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগের বয়সসীমা অনূর্ধ্ব ২৯ হলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নেতা হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন সদ্যবিদায়ী কমিটির সহ সভাপতি আদিত্য নন্দী ও সদ্যবিদায়ী কমিটির সদস্য রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।

অপরদিকে বয়সসীমা অনূর্ধ্ব ২৮ হলে শীর্ষ পদে নেতা হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন সদ্যবিদায়ী কমিটির উপ আইন সম্পাদক হোসাইন সাদ্দাম ও সদ্যবিদায়ী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মাজহার শামীম।

এছাড়া শীর্ষপদে আরও আলোচনায় রয়েছেন সদ্যবিদায়ী কমিটির সহ সভাপতি অর্না জামান, নীশিতা ইকবাল নদী, সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল পাঠান সেতু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী গত কয়েকদিন ব্যাস্ত সময় কাটিয়েছেন। এছাড়া শীর্ষ পদে যাদের নাম দলের নেতাদের কাছ থেকে তিনি পেয়েছেন তাদের বিষয়েও শেষ মূহুর্তে গোয়েন্দাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী চান, তিন প্রজন্ম থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় এমন পরিবার থেকে ছাত্রলীগের নেতা বানাতে। ছাত্রলীগের কোনো ধরণের অনুপ্রবেশ চান না তিনি। যে কারণে কমিটি ঘোষণা করতে সময় নিচ্ছেন। তবে দলটির নেতারা জানিয়েছেন, আর দুয়েকদিনের মধ্যেই একইসাথে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয়, ঢাকা মহানগর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

শেষ সময়ে নিজের অনুসারীদের শীর্ষ পদে দেখতে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছেন ছাত্রলীগের সাবেক শীর্ষ নেতারা। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর কারওয়ানবাজার মোড়ের পান্থকুঞ্জ পার্কের পাশ্ববর্তী একটি আবাসিক হোটেলের পাঁচতলার দুটি বিজোড় সংখ্যার কক্ষে নিয়মিত বৈঠক করছেন ছাত্রলীগের ওই সাবেক নেতারা। এই অংশের নেতারাও সাইফুর রহমান সোহাগ ও এস এম জাকির হোসাইনের মতো ছাত্রলীগের বয়সসীমা অনূর্ধ্ব ২৮ এর পক্ষে।

মন্তব্য করুন