• Home »
  • Uncategorized »
  • সন্তানদের ভুল স্বীকার করে পিতার পা ধরে ক্ষমা প্রার্থনা এবং পিতার ক্ষমা

সন্তানদের ভুল স্বীকার করে পিতার পা ধরে ক্ষমা প্রার্থনা এবং পিতার ক্ষমা

বিশেষ প্রতিবেদক: ১০১ বছর বয়সী জামির উদ্দিন শেখ তাদের সন্তানদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। জামির উদ্দিন শেখের বাড়ি শৈলকুপা উপজেলার বিপ্র বগদিয়া গ্রামে।

আজ বুধবার (১৬ আগস্ট) শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উসমান গণির অফিস কক্ষে সকালে সন্তানদের উপস্থিতিতে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানীর এক পর্যায়ে সন্তানরা তাদের ভুল বুঝতে পারে। বড় ছেলে সাহেব আলী তার পিতার পা ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। সকল ছেলেই পিতার সাথে আর কোনদিন খারাপ ব্যবহার করবেন না বলে অঙ্গিকার করেন। এখন থেকে ভরণ-পোষন, চিকিৎসা খরচসহ যাবতীয় দায়িত্ব সন্তানেরা পালন করবেন। দ্বিতীয় সন্তান ঢাকায় অবস্থান করায় তাকে ফোনে অবহিত করা হলে তিনি সব বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

এ বিষয়ে নিন্মোক্তভাবে আপোষ হয়:
১। ছোট ছেলের সংসার না থাকায় এখন থেকে পিতা তার চার ছেলের বাড়িতে এক মাস করে অবস্থান করবেন। অবস্থানকালে পিতাকে যথাযথ শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে রাখতে হবে। কোন অবস্থাতেই পিতার সাথে দুর্ব্যবহার করা যাবেনা।

২। সন্তানের বাড়িতে অবস্থানকালে পিতাকে যাবতীয় ভরণপোষণ ও যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

৩। পিতাকে মামলা পরিচালনা বা আইনের আশ্রয় গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনরূপ বাধা প্রদান করা যাবেনা।

৪। পরিবারের অন্যকোন সদস্য পিতার সাথে খারাপ ব্যবহার করলে তিনি তার সন্তানকে অবহিত করবেন এবং সন্তান এ বিষয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

৫। শুনানীতে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং আবেদনকারীর ভাতিজা গোলাম রসুল এ বিষয়ে তদারকি করবেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সময়ে সময়ে অবহিত করবেন।

৬। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরেজমিনে বৃদ্ধ লোকটির বাসস্থান পরিদর্শন করবেন এবং তার অবস্থা ঠিক আছে কিনা যাচাই করবেন।

৭। ৪ মাস পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক বৃদ্ধ জামিরউদ্দিনের সাক্ষাতকার গ্রহণ করা হবে। কোন ছেলে তাকে বেশি যত্ন করেছেন তা তিনি অবহিত করবেন।

৮। আপোষের কোন শর্ত কোন সন্তান অমান্য করলে বাদি পিতা-মাতা ভরণ-পোষণ আইন-২০১৩ বা অন্য কোন উপযুক্ত আইনের আশ্রয় গ্রহণ করবেন, এ বিষয়ে পিতাকে দায়ী করা যাবেনা।
শর্তসমূহ ছেলেরা বিনা বাক্যে মেনে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উসমান গণি বলেন, বাদি জামিরউদ্দিন চলতি মাসের ৮ তারিখে জেলা প্রশাসক, ঝিনাইদহ মহোদয় এর কার্যালয়ে গণশুনানীতে উপস্থিত হয়। জেলা প্রশাসক স্যার তাৎক্ষণিক টেলিফোনে আমাকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সে প্রেক্ষিতে বাদি জামিরউদ্দিন চলতি মাসের ১০ তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট উপস্থিত হয়ে সন্তানদের বিরুদ্ধে মারধর ও ভরণ-পোষণ না দেওয়ার অভিযোগ দেন। আজ সকল সন্তানের উপস্থিতিতে শুনানীর জন্য দিন ধার্য করা হয়। বিষয়টি ইতোমধ্যে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো, কালেরকণ্ঠসহ বেশ কিছু পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

 

ভিডিও-

মন্তব্য করুন